চরফ্যাশনে বাবার লাশ দাফন নিয়ে চার পরিবারের সংঘর্ষ, পুলিশ পাহারায় উঠানে দাফন

সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক , চরফ্যাশন (ভোলা) :
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জলিল পণ্ডিত বাড়িতে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে চার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ পাহারায় বাড়ির উঠানেই মরদেহ দাফন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাত প্রায় ৩টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে আব্দুল জলিল পণ্ডিত মারা যান। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার আগের চার স্ত্রীর সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে এসে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি এবং অন্যান্য পাওনার দাবি উত্থাপন করেন।
এ সময় ছোট ঘরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, তার বাবার কোন সম্পদ নেই সকল সম্পত্তি তার একার, তাই সম্পদের ওপর অন্য কারও অধিকার নেই। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এদিকে খাদিজা আক্তার স্মৃতির সাবেক স্বামী খোকন অভিযোগ করে বলেন, “২০১৬ সালে খাদিজা আক্তার স্মৃতির সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। আমাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিনের উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ আমার সকল সম্পদ স্ত্রী ও শ্বশুরের কাছেই ছিল। সেই অর্থ দিয়ে তারা দুটি বসতঘর নির্মাণ এবং জমি ক্রয় করেছেন। পরবর্তীতে আমার সম্পদ আত্মসাৎ করে আমার স্ত্রী আমাকে তালাক দেন এবং অন্য একজনের সঙ্গে চলে যান। বর্তমানে আমি ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমার দাবি অনুযায়ী সম্পদের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ দাফন করতে দেব না।” পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলে তিনি আপত্তি প্রত্যাহার করেন এবং মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে দাফনের স্থান নির্ধারণ নিয়েও নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। পরিবারের একাংশ দাবি করে, জীবদ্দশায় জলিল পণ্ডিত তার বাড়ির উঠানে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। অপরদিকে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, এ ধরনের কোনো কথা তার বাবা বলে যাননি এবং তাকে বাড়ির বাইরে কোনো কবরস্থানে দাফন করা উচিত।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ পাহারায় জলিল পণ্ডিতের মরদেহ বাড়ির উঠানেই দাফন করা হয়।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান না হলে যে কোনো সময় আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফিরোজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ দাফন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *