চরফ্যাশনে ‘পাতানো স্বামী’ অপবাদে হামলা-মারধর, চাঁদা দাবির অভিযোগ

সারাদেশ

চরফ্যাশন(ভোলা) প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশনে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন চায়না (২৫) নামের এক নারী ও তাঁর স্বামী মোস্তফা কামাল। ‘বিয়েবহির্ভূত পাতানো স্বামী নিয়ে থাকার’ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গভীর রাতে বসতঘরে ঢুকে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় বাধা দিতে গিয়ে ওই নারীর ভাই জুনায়েদও মারধরের শিকার হন। এ সময় অভিযুক্তরা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি প্রদান করেন।

গত ২৭ আগস্ট মধ্যরাতে দক্ষিণ আইচা থানাধীন চর কুকরী মুকরী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আমিনপুর গ্রামের খাস পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহিণী চায়না বাদী হয়ে স্থানীয় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে বিবাদী করে দক্ষিণ আইচা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা মোস্তফা কামালের সঙ্গে বিয়ের পর গত ২৭ আগস্ট রাতে স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন চায়না। রাত আনুমানিক ১টার দিকে স্থানীয় জাহাঙ্গীর হাওলাদার, ফোরকান হাওলাদার, আলী বেপারী, হেনজে আলী শরীফ, মোশারফ হাওলাদার, আব্বাস বক্স ও জাহির চৌকিদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তাঁদের বসতঘরে ঢুকে ভাঙচুর ও চেঁচামেচি শুরু করেন।

শব্দ শুনে ঘর থেকে বের হলে বিবাদীরা চায়নার সঙ্গে তাঁর স্বামীর সম্পর্ককে ‘বিয়েবহির্ভূত পাতানো স্বামী’ বলে মিথ্যা অপবাদ দেন এবং স্বামী মোস্তফা কামালকে টানাঁচ্যাড়া করে হেনস্তা করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা চায়না ও তাঁর স্বামীকে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় ভাই জুনায়েদ তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।

একপর্যায়ে অভিযুক্ত ফোরকান ও আব্বাস বক্স চায়নার বোন হাওয়া বিবির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। উল্লেখিত ব্যক্তরা এলাকায় সালিশ বিচারের নামে নিরব চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান কবির জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *