চরফ্যাশনে আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়: চরম ভোগান্তিতে মানুষ

সারাদেশ

কামাল মিয়াজী, চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। নতুন বছর ১৪৩৩ সালের পহেলা বৈশাখ থেকে ময়লা ফেলা বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হলেও বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেখা যায় একই স্থানে ময়লার স্তূপ ফেলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরফ্যাশন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কের পাশেই বিশাল ময়লার ভাগাড় তৈরি হয়েছে। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রীরা নাক-মুখ চেপে এলাকা অতিক্রম করছেন। অনেকেই চরম অস্বস্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে নাক-মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে যাতায়াত করছে। ময়লার স্তুপ রাস্তার ওপর ছড়িয়ে পড়ে চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
এ পথে নিয়মিত চলাচলকারী উপজেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, “মহাসড়কের পাশে এ ধরনের ময়লার ভাগাড় পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। দুর্গন্ধের কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।”
বাসস্ট্যান্ড এলাকার এক চা দোকানদার জানান, “পৌরসভার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ময়লা এনে এখানে ফেলছে। জনসাধারণের কষ্ট হলেও এর কোনো সমাধান হচ্ছে না।”
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, বিষয়টি নিয়ে গত বছর স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি নেই।
চরফ্যাশন হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, “ময়লা-আবর্জনা থেকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা রয়েছে। ময়লায় আগুন দেওয়ার ফলে ক্ষতিকর গ্যাস ছড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে মেয়র না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। যদিও নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি পহেলা বৈশাখ থেকে ময়লা ফেলা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছিলেন, বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।পৌরসভার কনজারভেন্সী ইনসপেক্টর সোহরাব হোসেন জানান,রাস্তার পাশ থেকে অন্যত্র ময়লার ভাগার সরানোর চেস্টা চলছে।
এ অবস্থায় পরিবেশ ও জনস্বার্থে দ্রুত ময়লার ভাগাড় অন্যত্র স্থানান্তর এবং স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *